বিকেলের সময়। বাড়ির রান্নাঘরে সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট্ট শিশু, স্কুল থেকে ফিরে, দাদিমার পাশে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করে, 'আজ কী রান্না করেছো?' দাদিমা ধীরে ধীরে, পুরনো দিনের গান গাইতে গাইতে, ডাল-ভাত আর সবজি মিশ্রণ নাড়ছেন। রান্নাঘর জুড়ে এক শান্ত পরিবেশ।
অন্য ঘরে, মা কাজ শেষ করে, মোবাইলে কিছু দেখছেন। শিশু দাদিমার রান্নাঘরে সময় কাটাতে চায়। দাদিমা শিশুকে বলেন, 'খাবার শুধু স্বাদ নয়, এটা মনের অবস্থাও, শরীরের সুস্থতাও।'
সেই বাড়ির এক কোণে, একটি পুরনো ছবি। দাদিমা, দাদু, তাঁদের সন্তানরা—সবাই একসাথে, সাদা হাসিতে ভরা মুখ। তখন খাবার বাড়িতেই তৈরি হতো, সবাই একসাথে খেত। আজকের ব্যস্ত জীবনে, রান্নাঘর যেন কেবল পেরিয়ে যাওয়ার জায়গা হয়ে গেছে।
দাদিমা শিশুর হাত ধরে বলেন, 'তুমি এখানে বসো, আমি তোমার জন্য একটু ডাল-ভাত পরিবেশন করি।' তখনই শিশু খাবারের গন্ধের পেছনের ভালোবাসা ও নিরাপত্তা অনুভব করে।
মা দূর থেকে দেখেন, দাদিমা ও শিশুর মধ্যে সেই শান্ত মুহূর্ত। এক মুহূর্তের জন্য, তাঁর নিজের দাদিমার রান্নাঘর মনে পড়ে যায়। তখন বাড়ির শব্দ, শিশুর ঘুমের সময়—সবকিছু স্বাভাবিক ছিল।
এখন সেই শান্তি কোথায়? শিশু যখন দাদিমার পাশে বসে খায়, বাড়িতে এক শান্তি ছড়িয়ে পড়ে, আর সেই খাবার পরবর্তী প্রজন্মের স্বাস্থ্যের ভিত্তি হয়ে ওঠে। সেই ছোট মুহূর্তটি আবারও পরিবারের মধ্যে খাবারের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।